দেশের ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট সত্ত্বেও মেঘনা ব্যাংক পিএলসি রয়েছে দৃঢ় অবস্থানে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) মাত্র ৭৬ দশমিক ৪৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ২০২৪ সাল শেষে ব্যাংকের আমানত স্থিতি ছিল ৮ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।
ব্যাংক সূত্র জানায়, গত বছর দেশের অনেক ব্যাংকের আমানত কমলেও মেঘনা ব্যাংকের নিট আমানত ২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর সঙ্গে ২০২৫ সালের জুন শেষে আরো ৪৭২ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। ফলে আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায়।
এ প্রসঙ্গে মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছাদেকুর রহমান বলেন, ‘চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে মেঘনা ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত। ব্যাংকের বর্তমান ক্রেডিট রেটিং ডাবল এ প্লাস। এছাড়া সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) ১৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশের বেশি ও খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা ব্যাংক খাতের গড়ের তুলনায় অনেক কম।’
তিনি জানান, টেকসই আমানত প্রবৃদ্ধি, ঋণের বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বাণিজ্যে অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ও আয়ের বহুমুখীকরণ মেঘনা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে আরো শক্তিশালী করছে। নতুন শাখা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ব্যাংকটি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
মো. ছাদেকুর রহমান আরো বলেন, ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিস্তারে আমরা ক্যাশবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করছি। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা মেঘনা পে, উন্নতমানের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও আধুনিক ক্রেডিট কার্ড সুবিধা।’